জ্বর কী, কেন হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
জ্বর কী, কেন হয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়
জ্বর কী
জ্বর কোনো আলাদা রোগ নয়, বরং এটি শরীরের একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া। যখন শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য কোনো জীবাণু আক্রমণ করে, তখন শরীর সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে। এর চেয়ে বেশি হলে তাকে জ্বর বলা হয়। জ্বর ছোট-বড় সবারই হতে পারে এবং এটি বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।
জ্বর কেন হয়
জ্বর হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ঠান্ডা লাগা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া কিংবা শরীরে কোনো প্রদাহের কারণে জ্বর হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের অভাব বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও শরীর দুর্বল হয়ে জ্বর আসে। শিশুদের ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পর সাময়িক জ্বর দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
জ্বরের সাধারণ লক্ষণ
জ্বর হলে শরীর গরম হয়ে যায় এবং রোগী দুর্বল অনুভব করে। অনেক সময় মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, কাঁপুনি, ঘাম হওয়া, ক্ষুধামন্দা ও গলা ব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে বমি, কাশি বা শ্বাসকষ্টও হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কান্না, খাওয়া কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জ্বর প্রতিরোধের উপায়
জ্বর প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করতে হবে। নিয়মিত হাত ধোয়া, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ পরিষ্কার করতে হবে এবং অপরিষ্কার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ডেঙ্গুর মতো রোগ প্রতিরোধে বাসার আশেপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
জ্বর হলে করণীয়
জ্বর হলে রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ভালো। খুব বেশি জ্বর হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। যদি টানা কয়েকদিন জ্বর থাকে, শ্বাসকষ্ট হয় বা রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
উপসংহার
জ্বর আমাদের শরীরের একটি সতর্কবার্তা, যা জানিয়ে দেয় শরীরের ভেতরে কোনো সমস্যা হচ্ছে। তাই জ্বরকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো সচেতনতা, সঠিক যত্ন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করলে জ্বর থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকতে হলে আমাদের সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।